০১আল্লহর দল
- ১
যেই দল আল্লহর এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করে, সেই দল আল্লহর দল।
- ২
তাদের হারানোর কিছু নেই।
- ৩
দুনিয়াতে তারা বেঁচে থাকলে গাজী, আর মারা গেলে শহীদ।
আল্লহর দল
আল্লহর সন্তুষ্টি প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে - আপনার জীবনের অর্জিত সকল অভিজ্ঞতা ও ট্যালেন্ট দিয়ে মুসলিমদের টেকসই উন্নয়নের জন্য আল্লহর নির্দেশিত পথে কি করতে পারলেন, মুসলিম হিসেবে এটাই আপনার জীবনের সার্থকতা।
এই ইবুকটি ধর্মীয় শিক্ষা, ব্যক্তিগত চিন্তা ও আত্মউন্নয়নমূলক আলোচনার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত। এটি কোনো ফতোয়া, আইনগত পরামর্শ, রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নয়।
আল-কুরআন, হাদিস, ধর্মীয় ব্যাখ্যা ও সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য তাফসির, সহীহ হাদিস এবং যোগ্য আলেমের পরামর্শের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করা উচিত।
এখানে ব্যবহৃত ধর্মীয় ও রাজনৈতিক শব্দসমূহ লেখকের মূল বক্তব্যের অংশ হিসেবে সংরক্ষিত হয়েছে। এগুলো কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘৃণা, সহিংসতা, অবৈধ কার্যক্রম বা নিজ হাতে শাস্তি প্রয়োগের আহ্বান হিসেবে বিবেচ্য নয়।
পাঠককে দেশের আইন, মানুষের অধিকার, শান্তি, ন্যায়, নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে ধর্মীয় জ্ঞানচর্চা ও কল্যাণমূলক কাজে অংশ নেওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে।
যেই দল আল্লহর এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করে, সেই দল আল্লহর দল।
তাদের হারানোর কিছু নেই।
দুনিয়াতে তারা বেঁচে থাকলে গাজী, আর মারা গেলে শহীদ।
যেই দল শয়তানের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করে, সেই দল শয়তানের দল।
তাদের আফসোসের শেষ থাকে না এবং তাদের জীবনে পরম শান্তি থাকে না।
তারা মারা গেলে তাদের জন্য আছে জাহান্নামের কঠিনতম শাস্তি।
আল কুরআন এ বর্ণিত সবচেয়ে রহস্যময় ঘটনা হলো মুসা (আ:) ও খিযির (আ:) এর ঘটনা। এবং সবচেয়ে রহস্যময় চরিত্র হলো খিযির ( আ: )। উক্ত ঘটনাবলী বিশ্লেষণ করে পাওয়া যায় -
আল্লহ তাঁর নিজের দলের লোকদের অদৃশ্য উপায়ে সাহায্য করেন ও তাদের দায়িত্ব আল্লহর নিকটে থাকে। কাজেই তাদের হারানোর কিছু নেই। তারা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লহর উপর ভরসা রাখে এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর নির্দেশনা মেনে চলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে।
আল্লহ তাঁর নিজের দলের লোকদের কখনও কখনও ছোট বিপদ দিয়ে বড় বিপদ থেকে রক্ষা করেন।
আল্লহ তাঁর নিজের দলের লোকদের ঈমান বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করেন। ঈমান এর কোনো পরীক্ষায় পাস করতে পারলে, এর বিনিময়ে আল্লহ তাকে দুনিয়া ও আখিরাতে বড় পুরস্কার দেন। তাদের নেক আমল ও দোয়ার বরকতে আল্লহ তাদের এবং তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপরও রহমত ও বরকত নাজিল করেন।
দুনিয়ার জীবনকে পরীক্ষা ক্ষেত্র হিসেবে মেনে নিয়ে, জীবনের সব ক্ষেত্রে আল্লহর বিধান প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা।
হালাল উপার্জনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করা, বিনা স্বার্থে মানুষের উপকার করা ও প্রতিদান আল্লহর কাছে চাওয়া ।
জীবনের সকল অবস্থায় আল্লহর উপর ভরসা রেখে ধৈর্য্য ধারণ করা। মনে রাখতে হবে, আল্লহ যা করেন - অবশ্যই তার অন্তর্নিহিত কোন না কোন কারণ আছে।
জীবনে চলার পথে ভুল হলে তওবা করা, আর সেই ভুলের চেয়ে বেশি মানের নেকির কাজ করা।
কোনো ভুলের মাধ্যমে যদি বান্দার হক নষ্ট হয়, তবে তা আদায় করা।
জ্ঞান ও ভালো গুণাবলী অর্জন করা।
জ্ঞানের প্রচার করা।
পারস্পরিক উপকার করা। তারাই সৃষ্টির সেরা, যারা মানবজাতির জন্য সবচেয়ে উপকারী।
একতাবদ্ধ থাকা । গীবত, চোগলখোরী, অপবাদ মুসলিমদের মধ্যে একতা বিনষ্ট করে।
অপরদিকে পারস্পরিক উপকারের মাধ্যমে মুসলিমদের মধ্যে একতা বৃদ্ধি পায়।
সচেতন হওয়া - এমন উপায় আবিষ্কার করা যাতে কেউ আমাদের ক্ষতি করতে না পারে।
উদ্ভাবন।
সকল ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের চেষ্টা করা।
হালাল আয়, হালাল খাদ্য, হালাল পোষাক অর্জনের জন্য উদ্ভাবন এবং বাস্তবায়ন করা।
এমন একটি উপায় বের করা যাতে প্রায় সব ধরনের সমস্যার সমাধান করা যায়।
এইভাবে ১-৯ ধাপ সম্পন্ন করার মাধ্যমে আমরা যে সিস্টেম পাই তার ব্যাকআপ রাখা এবং সময়ের সাথে আল - কুরআন ও সহীহ হাদিস এর মাপকাঠি অনুযায়ী উক্ত সিস্টেম কে আপডেট করা।
সকল ক্ষেত্রে আল্লহর উপর পূর্ণ ভরসা করা এবং ধৈর্য ধারণ করা। আল্লহ তাদের ভালোবাসেন - যারা তাদের কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করে।
একটু ভেবে দেখুন, আপনি একা একদিনে নিজের উপকার সর্বোচ্চ ২৪ ঘন্টা করতে পারবেন। কিন্তু যদি ৩০০ জন মুসলিম দিনে ৫ মিনিট আপনার উপকার করে,তাহলে আপনি একদিনে উপকার প্রাপ্ত হন ৩০০ * ৫ = ১৫০০ মিনিট যা ২৪ ঘন্টার থেকে বেশি। আলহামদুলিল্লাহ এই পৃথিবীতে এখন মুসলিম রয়েছে ১৬০ কোটির ও উপরে। প্রতিটি মুসলিম যদি তার ওপর মুসলিম ভাই এর উপকার এর জন্য দিনে ৫ মিনিট তার অবস্থান থেকে চেষ্টা করে - তাহলে একজন মুসলিম এর জীবন কতটা সহজ হয়ে যাবে চিন্তা করেন। এখানেই মুসলিমদের পারস্পরিক উপকারের সার্থকতা।
৩০০ জন × ৫ মিনিট = ১৫০০ মিনিট
১৫০০ মিনিট / ৬০ মিনিট = ২৫ ঘন্টা
২৫ ঘন্টা ≥ ২৪ ঘন্টা
সহজ একটি পদ্ধতি হলো — ধরি আল্লাহর দল বই টি আমরা পৃথিবীর ১৬০ কোটি মুসলিম এর কাছে পৌঁছাতে চাই। এক্ষেত্রে একজন মুসলিম প্রথম দিনে ওপর ২ জন মুসলিম কে জানাবে। এরপর ওই ২ জন মুসলিম পরবর্তী দিনে ওপর ২ জন মুসলিম কে জানাবে। এই পদ্ধতিটি ৩১ দিন চালু রাখলে, ৩১ তম দিনে দেখা যাবে উক্ত বই টি ১৬০ কোটি মুসলিমের কাছে পৌছে গেছে ইনশাল্লাহ
২ⁿ ≥ ১৬০ কোটি
n = log২(১৬০ কোটি) ≈ ৩১
২৩১ = ২১৪.৭৫ কোটি ≥ ১৬০ কোটি
আল্লহ তাআলা বলেছেন তোমরা তার রশিকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো, পরস্পর থেকে পৃথক হয়না। অর্থাৎ একতাবদ্ধ হয়ে আল্লহর এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা কর। (সূরা আল-ইমরান, আয়াত ১০৩)
আবার যে ব্যক্তি তার দুই ভাই অথবা দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধ মিটানোর চেষ্টা করবে সে ইনশাল্লাহ জান্নাতে যাবে। (সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত ১০)
সঠিক জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে, কারো অন্ধ অনুসরণ না করে, নিজ অবস্থানে থেকে আল্লহর এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে আপনার সাধ্যমত চেষ্টা করবেন।
এজন্য কোন নির্দিষ্ট দল বা গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত হওয়া জরুরী নয়। তবে একক প্রচেষ্টা থেকে দলগত প্রচেষ্টা অনেক বেশি কার্যকরী।
যে সকল দল আল্লহর এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে, তাদের সকল ভাল কাজে আপনার সাধ্যমত সহযোগিতা করার চেষ্টা করবেন। এটা হতে হবে আল্লহর সন্তুষ্টি প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে।
মনে রাখতে হবে সব দল সকল ক্ষেত্রে পারফেক্ট হবে না। কোন দলের কোন কাজ খারাপ লাগলে, এক্ষেত্রে আমাদের ধৈর্য্য ধরে কাজ করতে হবে। তাদের সাথে পার্সোনালি যোগাযোগ করে তা ঠিক করার চেষ্টা করতে হবে। কিন্তু কোনভাবেই সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম এ তাদেরকে অপমান করে নয়।
আপনি চেষ্টা করবেন যেন সকল মুসলিমদের মধ্যে ঐক্য, একতা বজায় থাকে।
মনে রাখতে হবে আল্লহ তায়ালা মুসলিমদেরকে একতাবদ্ধ থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। এখন একসাথে কাজ করার সময়। আমাদের কাদা ছোড়াছুড়ি থেকে এখন বিরত থাকা উচিত। আগে সবাই মিলে ইসলামি বিধানকে ক্ষমতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করুন। তারপর ক্ষমতায় এসে কিভাবে দেশ চালাতে হবে তার বাহাস করার অনেক সময় পাবেন। আর এটা না করলে ইসলামের শত্রুরা মুসলিমদের ক্ষতি করার সুযোগ পেয়ে যাবে।
আল্লহর সন্তুষ্টি প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে - আপনার জীবনের অর্জিত সকল অভিজ্ঞতা ও ট্যালেন্ট দিয়ে মুসলিমদের টেকসই উন্নয়নের জন্য আল্লহর নির্দেশিত পথে কি করতে পারলেন, মুসলিম হিসেবে এটাই আপনার জীবনের সার্থকতা।
সৎ, যোগ্য, তাকওয়াবান লোকেরা ক্ষমতায় আসলে দেশ ও জাতির টেকসই উন্নয়ন সম্ভব। এক্ষেত্রে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সঠিক ভিত্তি পাবে।
তাহলে আপনি আল্লহর দলের অন্তর্ভুক্ত হবেন ইনশাল্লাহ।
ইসলাম অনুযায়ী নিজের জীবনকে সাজাতে পারলে, জীবনের সব হিসেব মিলে যাবে ইনশাল্লাহ। এর বাহিরে গেলে জীবনের হিসাব মিলাতে পারবেন না।
আপনি আল্লহর সন্তুষ্টি প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে আল্লহর নির্দেশিত পথে ধৈর্য ধরে কাজ করবেন, আল্লহ তায়ালাও আপনাকে সন্তুষ্ট করবেন।
আসুন আমরা নিজেদের সাধ্যমত, ব্যক্তিগত বা দলগত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একতাবদ্ধ হয়ে থাকার চেষ্টা করি, এবং সম্মিলিতভাবে আল্লাহর এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করি।
হে আল্লহ, আপনি সকল মুসলিমকে ঐক্যবদ্ধ করুন এবং সম্মিলিতভাবে আপনার এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টার তৌফিক দান করুন। সকল মুসলিমকে আপনার সন্তুষ্টির পথে চলার তৌফিক প্রদান করুন এবং তাদের উপর আপনার সন্তুষ্টি প্রদান করুন।
আল্লহুম্মা সল্লি আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা সাল্লাইতা আলা ইব্রহীম ওয়া আলা আলি ইব্রহীম ইন্নাকা হামীদুম মাজিদ। আল্লহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা বারাকটা আলা ইব্রহীম ওয়া আলা আলি ইব্রহীম ইন্নাকা হামীদুম মাজিদ।
আমিন।